Breaking News
Home / Slider / বছর ঘুরতেই গাড়ির হেলপার থেকে যেভাবে এখন কোটিপতি মোদাচ্ছের !?

বছর ঘুরতেই গাড়ির হেলপার থেকে যেভাবে এখন কোটিপতি মোদাচ্ছের !?

মাত্র কিছুদিন আগেও বাসায় পরিবারের খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হতো তাকে,তথ্যমতে টাকার অভাবে বারকয়েক চুলাও জলেনি বাড়িতে। সেই মোদাচ্ছের এখন এলাকার নামকরা কোটিপতি ! এই দেশে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর ঘাম ঝড়িয়ে যেখানে কোটি মানুষ অন্যান্য মৌলিক চাহিদাতো দূর, তিনবেলা নিজের খাবারটাই জোটাতে হিমশিম খায় সেখানে মোদাচ্ছেরদের মত আরও অনেক মানুষ শুন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার এমন ঘটনা প্রায়শই চমকে দেয় আমাদের।

পাঠক, কি ভাবছেন, আলিফ লায়লায় দেখা গল্পের মত কোন আলাদীনের চেরাগ অথবা ‘খুল যা ছিম ছিম’ টাইপ কোন ব্যপার কি না ?
নাহ, আপনি ঠিকই ধরেছেন, আলিফ লায়লার সেই যুগতো আর নেই এখন। রাজনীতি নামক আলাদিনের চেরাগ দিয়েই মোদাচ্ছেরের আঙ্গুল এখন ফুলে কলাগাছ ।
ভুমিকা নয়, সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে এমনি এক চমকপ্রদ কাহিনী !
সম্প্রতি শহীদুল্লাহ ওরফে কালা মানিক নামের এক সন্ত্রাসীর নাম আলোচনায় এসেছিলো গনমাধ্যমে । সাধারণ একজন বাস হেলপার থেকে যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে তিনি হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা, ঝুট ও ড্রেজার সন্ত্রাস করে কালা মানিক বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। সেই গল্পের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো সামনে এলো সাধারন বাস হেলপার থেকে মাত্র কিছুদিনেই কোটিপতি বনে যাওয়া আরও এক সন্ত্রাসীর ইতিহাস !

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনীয়া থেকে মোজাফফর আলীর পাঠানো রিপোর্টে বিস্তারিত –

এবার চাঁদের গাড়ির হেলপার থেকে কোটিপতি বনে গেছেন সন্ত্রাসী মোদাচ্ছের, বর্তমানে তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত । মাত্র ১০-১২ বছর আগেও সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরের পরিবারে চুলা জ্বালাতে হিমশিম খেতে হত। সে মোদাচ্ছের এখন ইসলামপুর ইউনিয়নের পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির ফুলতলী এলাকায় দুটি ভবনের মালিক। জমির মালিক হয়েছেন ১০-১২ একরেরও বেশি জমির। কয়েকটি ইটভাটায় প্রায় ২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া মোদাচ্ছের।

রাঙ্গুনিয়ার ত্রাস শামশু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষক হিসেবেও রয়েছে তার বেশ সুখ্যাতি। গত বুধবার সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ আটকের পর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন তার সব অজানা কাহিনী।

আনিসুল ইসলাম ওরফে মোদাচ্ছের (৩০) বর্তমানে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। মাত্র এক যুগ আগে তিনি রানীরহাট সড়কের চাঁদের গাড়ির হেলপার ছিলেন।

গত বুধবার ( ০৪ মে) ভোররাতে রাঙামাটি সদর জোনের সেনা সদস্যরা তাকে নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর দিনভর তাকে নিয়ে রীতিমত লুকোচুরি খেলার অভিযোগ উঠে রাঙামাটি সদর থানা ওসি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে  । গণমাধ্যম কর্মীরা তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে থানায় ফোন করলে ওসি বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মোদাচ্ছের নামে কোনো সন্ত্রাসীকে সেনাবাহিনী তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি।

এরপর গনমাধ্যমের চাপে বিষয়টি স্বীকার করলেও পুরো তথ্য দিতে আমতা আমতা করেন তিনি।

অভিযানের সময় সেনা সদস্যরা তার কাছ থেকে একটি বিদেশি শার্টারগান, একটি শর্টগান, একটি এলজি ও ২টি বন্দুক এবং ৫৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন। তাকে গ্রেফতারের পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন শান্তিকামী ও নির্যাতিত মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, মোদাচ্ছের এক যুগ আগেও রানীরহাট সড়কের চাঁদের গাড়ির হেলপার ছিলেন। সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচারকারীদের কাঠ ও ইটভাটার ইট পরিবহন করতেন ভাড়ায়। যা দেখতে দেখতে শেখা। এক সময় নিজেই সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে শুরু করে পাচার।

এরপর  ইটভাটার ইট পরিবহন বাদ দিয়ে মগ্ন হয়ে পড়েন বনের মূল্যবান কাঠ কেটে পাচারে। রাতারাতি হয়ে উঠলেন লাখপতি। বনের কাঠ পাচার করতে গিয়ে জড়িত হয়ে পড়েন অস্ত্রবাজিতে। যা নির্বিঘ্নে করতে যোগ দেন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। পেয়ে যান অস্ত্র। শুরু হয় গডফাদারের নির্দেশে ইটভাটায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অস্ত্রব্যবসা।

হাতে আসতে থাকে লাখ লাখ টাকা। এরপর শুরু করেন মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ নানা রকম মাদকদ্রব্য পাচার। তাতে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিতে থাকেন গডফাদার শামসু।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হচ্ছেন সন্ত্রাসী বখতেয়ার, এরশাদ, খোকন। তাদের সহযোগী রয়েছে আরও ১৫ থেকে ২০ জন দুধর্ষ সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে যতবার পুলিশ ও র্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন ততবারই ছাড়িয়ে আনতে সহযোগিতা করেছেন জনসম্মুখে মুখোশ পরে থাকা গডফাদার সামশু। ফলে মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি হয়ে উঠেন সন্ত্রাসী মোদাচ্ছের ও সামশু বাহিনীর সহযোগী সদস্যরা।

এর মধ্যে আগামী ২৮মে উপজেলার ১২ ইউনিয়নের সঙ্গে ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ইউনিয়নে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরকে সম্প্রতি ৫৫ রাউন্ড গুলি কিনে দেন গডফাদার সামশু। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় মোদাচ্ছেরের জন্য। গোপন সংবাদে খবর পেয়ে রাঙামাটি নানিয়ারচর ক্যাম্পের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে মোদাচ্ছেরকে। উদ্ধার করে অস্ত্র ও গুলি।

এলাকাবাসী জানায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির এজলাশ মিয়ার পুত্র আনিসুল ইসলাম ওরফে মোদাচ্ছের (৩০)। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন তিনি। মোদাচ্ছের পার্শ্ববর্তি রাজানগর ইউনিয়নের অধিবাসী শামসু বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার।

রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার ল্যাপটেনেন্ট কর্নেল সামশ জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরের সহযোগী সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের নাম পাওয়া গেছে। যাদের কাছেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী।

বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের পেজ স্বাস্থ্য কথা ।। Health Talk এ লাইক দিন! 
Loading...

Check Also

দারুণ সুস্বাদু শাহী টুকরা রেসিপি

অনেক সময় বাড়িতে মেহমান এলে চট জলদি মিষ্টি কিছু বানাতে হয়। অথবা মাঝে মাঝে বাড়িতেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

[X]
Loading...